Monday, June 8, 2009

সিলেট ট্যুর - পর্ব ২ : মন মাতানো গানের আসর

সময়মত ট্রেন ছাড়ল। কেউ সিটে বইসা আছে, কেউ দাঁড়াইয়া আছে। এর মধ্যে শবনম আর এলিন পাশাপাশি সিটে বসে ছবি তুলল যাতে বাসায় গিয়া দেখানো যায় যে তারা ট্রেনে সুযোগ পাইয়াও প্রেমিকের সাথে রাত কাটায় নাই এবং তারা কত্ত ভালো! বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর দেখা গেল এলিন তার ব্যাগ থেকে যত্নে বানানো পরম মমতা মাখানো খাবার বের করে জামির (লম্বা) হাতে তুলে দিল। এলিন আর জামির বিয়ের পর তাদের বাসায় দাওয়াত খাইতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে কিনা এইটা যাচাই করার জন্যে আমি সেই খাবার একটু টেস্ট কইরা দেখলাম। জামির খাবারে ভাগ বসানোতে এলিন মনে হইল একটু মাইন্ড খাইলো! আমার সামনের দু'সিটে মুফতি আর শবনম। আমি আর ফয়সল তাদের পেছনে বসে তাদের প্রেম-পূর্ণ কথা-বার্তায় ব্যাঘাত ঘটাইতেছি খানিকটা ...

কিছুক্ষণ পর পোলাপান আজাদের নেতৃত্বে গান গাওয়া শুরু করল। পোলাপানের সুপ্ত গায়কি প্রতিভার তীব্র বিচ্ছুরণ ঘটল! সেই বিচ্ছুরিত আলো অনুসরণ কইরা ট্রেন মাস্টার আমাদের বগিতে আসলেন এবং আমাদের বুঝানোর চেষ্টা করলেন যে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা আমাদের সুললিত কন্ঠের প্রেমে পড়তে পারে এবং এতে করে তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মনে হইল তিনি আমাদের শব্দ না করে গান গাওয়ার অনুরোধ করতেছিলেন যার কারণে রুবেল তীব্র অভিমানী গলায় বইলা উঠল - ট্রেনের আওয়াজ তো আমাদের গানের চেয়েও বেশি! একদল বিচ্ছু পোলাপানের সাথে কথা না বাড়াইয়া বুদ্ধিমানের মত উনি সোজা হাঁটা ধরলেন।

আমাদের পারফরম্যান্স সেইরকম হইতেছিল। তার প্রমাণ - কিছুক্ষণ পর সামনের সিটের এক আন্টি আমাদের song request করলেন। আরো কিছু গানের অনুরোধ আসলো। আমরা তাদের অনুরোধ ফেলতে পারলাম না। আমাদের পারফরম্যান্স আরো ভাল হচ্ছিল। গান খুব ভাল গাইলে যা হয় আর কি! দর্শক-শ্রোতারাও গলা মেলায়। আমাদের সেই আন্টিও প্রচন্ড উৎসাহে আমাদের সাথে গলা মিলাইলো। হঠাৎ রাত দেড়টার দিকে আজম মামার মোবাইলে আজান হইল। আজম খুব ধার্মিক পুরুষ। সে সাথে সাথে চোখ বন্ধ কইরা গভীর ধ্যানের সাথে মোবাইলে ইবাদত শুরু করল। এতকিছুর মধ্যেও দুটা পোলা ছিল চুপচাপ। একটা হইল ফয়সল, আরেকটা তমাল। ফয়সলরে দেখলাম মোবাইলে গান শুনতাছে আর তমাল চোখের উপর রুমাল দিয়া ঘুমাইতেছে।

এইভাবে আমরা ট্রেনের যাত্রীদের মনোরঞ্জন করতে করতে পৌঁছলাম আমাদের গন্তব্য শ্রীমঙ্গল এ। ৪টা বাজে। এতভোরে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন কাজ নাই। অনেকের খিদাও পাইছে। শ্রীমঙ্গল স্টেশন থেকে বের হইয়াই ২/১ টা খাবারের দোকান চোখে পড়ল। আমরা ঢুকলাম। পরোটা-ভাজি-ডিম-চা এইসব খাইলাম। সাথে সাথে আড্ডাও চলতে থাকল। প্রসঙ্গক্রমে সেই আন্টির কথা উঠল। শবনম সেই মহিলাকে আন্টি ডাকায় মাইন্ড খাইল। তার মতে উনাকে বড়জোর আপা বলা যায়। স্বাভাবিক। ৪০ ছুঁই ছুঁই একটা মহিলাকে আপা ডাকলে শবনম হয়তো আরো কনফিডেন্স পায় :P আরেকজন বলল - একবার ক্লাস থ্রি এর এক বাচ্চা পোলা তারে আংকেল ডাকছিল। আমি যুক্তি দিয়া বুঝানোর চেষ্টা করলাম - ক্লাস থ্রি'র ওই বাচ্চার সাথে আমাদের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের মত। আর ওই মহিলার বয়সও আমাদের চেয়ে অন্তত ১৫ বছর বেশি। তাইলে তারে আমরা আন্টি ডাকতেই পারি। আরেকজন আবার সুবিধাবাদী একটা মতামত দিল। ওই মহিলার যে মেয়ে ছিল তারে যার পছন্দ হয় সে আন্টি ডাকব, বাকিরা আপা।

বোমা ফাটাইল তমাল! সে একটা ভিজিটিং কার্ড বাইর কইরা বলল - আন্টি মডার্ন হুজুরাইন, "এসো কোরআন শিখি" নামের একটা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিকা। আমরা কয়েকজন উৎসাহ নিয়া সেই কার্ডে চোখ বুলাইলাম। তমাল এই কার্ড পাইল কই? তমালরে নাকি আন্টি দিছে। তারে ক্যান দিল? তমালের উত্তর - "আমাকে reliable মনে হইছে, তাই দিছে। তোদেরকে হয়তো মনে হয় নাই।" পোলার কথা শুনছো! তুই বেটাই কি শুধু ইয়ে ব্যবহার করিস? আমি জিগাইলাম - তুই চোখের উপর রুমাল দিয়া ঘুমাইছোস আর তাতেই প্রমাণ হইল যে you believe in protection? তমাল হাসে... আমরাও হাসি :D

6 comments:

Ahmed said...

what next ....? please write about the whole tour ....

ADNAN said...

jotil hoise....
keep it up.......

ভানু তপন দিবাকর... said...

ওই, তোর হয়!
চালায় যা!

শিশিরবিন্দু said...

মজা পাইতেসি!!

কিন্তু আমার নামে বানোয়াট কথাবার্তা বন্ধ করা হউক!!! :P

ফেরারী ফেরদৌস said...

@শিশিরবিন্দু, আপনি কে গো?

শিশিরবিন্দু said...

এই রে, কি বলে গো?? আমাকে না কি চেনে না!! হায় হায় !!!