Tuesday, June 9, 2009

সিলেট ট্যুর - পর্ব ৩ : লাউয়াছড়া বন

ভোর ৬ টার দিকে আমরা লাউয়াছড়া বনের দিকে রওনা দিলাম ২ টা মাইক্রোতে কইরা। একটা মাইক্রো কালা, আরেকটা ধলা। কালাটাতে ঢুকল বিড়িখোর আর বিড়ির-গন্ধ-ভাল্লাগে পোলাপান। ধলাটাতে ঢুকল একটা কুলাঙ্গার পোলা - তমাল, ২ টা সুশীল পোলা - আজম, আমি আর ২ জোড়া অশ্লীল পোলামাইয়া - জামী, এলিন, মুফতি, শবনম। একদম পেছনের সিটে তমাল, মুফতি, শবনম। তমাল এট্টু মোটাসোটা। এটা অশ্লীল জুটির লাইগা শাপে বর। তারা আরো চাপাচাপি কইরা বসল। দুইজনেই ছোট্ট-খাট্ট মানুষ। পারলে মুফতির কোলে শবনম চইড়া বসে :P ঢলাঢলি করতে কার না ভাল্লাগে :D তমালের সামনের সিটে আজম, জামী আর এলিন। জামী-এলিন দুইজনেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। লম্বা চওড়া। ছোট্ট সিটে তাদের হয় না। তারা তাই ক্ষান্ত দিসে। পুরা ট্যুরে সিটপ্ল্যান ছিল এরকমই। জামীর পাশের সিট আর ড্রাইভারের পাশের সিট আমি আর আজম অদল-বদল কইরা বসছি।

আধঘন্টার মধ্যে আমরা বনে পৌঁছাইয়া গেলাম। বনের সৌন্দর্যের বর্ণনা আমারে দিয়া হইব না। এর জন্য লাগব বিভূতিভূষণ ভাইরে। বনের ভিত্রে দিয়া যাইতেছিলাম আমি। চারদিক চুপচাপ। শান্ত, নির্জন। পাখির ডাক। তাদের টয়লেট চাপছে নিশ্চিত। টয়লেট এ লাইন দিছে আর ভিত্রেরটারে বাইর করার লাইগা চিল্লাইতেছে। বিভূতিভুষণ ভাই খালি পায়ে হাঁটছিল বইলা পায়ের নিচে পিষ্ট পাতার ভাইঙা পড়ার শব্দ শুনছিল। আমি বাটা সু পইড়া ছিলাম বইলা হয়ত পাতার মর্মর ধ্বনি শ্রুতিগোচর হয় নাই। যাই হোক। এত ঘন সবুজ বহুত দিন পরে দেইখা খুব খুব ভাল্লাগছে। লেবু গাছের পাতা ছিঁড়া তার ঘ্রাণ নিছি। সেই ঘ্রাণে মাথাটা কেমন জানি ঝম-ঝম কইরা উঠল! আমি আর শান্তনু অনেক খুঁজাখুঁজি কইরা একটা স্বাস্থ্যবান লেবু গাছ থেকে ছিঁড়া নিয়া আসছি। প্রকৃতির মাঝে আমাদের ফটোসেশনও হইল। মাঝে মাঝে আমরা রাস্তাও হারাইয়া ফেলছিলাম। পরে ডেড-এন্ড দেইখা ফেরত আসছি। পথ দিয়া হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মাথার উপর আচমকা কি জানি একটা ভাইঙা পড়ার শব্দ হইল জোরে! আমি দিলাম ভোঁ-দৌড় সামনের দিকে। পেছনে তাকাইয়া দেখি যেইখানে ছিলাম ওইখানে পড়ছে পচা কাঁঠালের মত একটা জিনিস। আল্লাহ বাঁচাইছে। লাউয়াছড়ার গহীন বনে মেধাবী হইয়া যাই নাই।

বনের ভিতর দিয়া গেছে রেললাইন। রেললাইনের পাশে আমগাছ দেইখা কারো কারো মাথা খারাপ হওয়ার দশা! চিল্লাচিল্লি। গার্ডরা দূর থেকে চিল্লাইয়া আমাদের সাবধান কইরা দেয় - বনের ভিতরে চিল্লাচিল্লি করা যাইব না। রুবেলরে আমরা কিছুতেই থামাইতে পারতেছিলাম না। সে একটা আমরে টার্গেট করছে। সে ওইটা পাইড়াই ছাড়ব। রবার্ট ব্রুস ৭ বারের চেষ্টায় পারছিল। আমাদের রুবেল পারল ২০ বারের মত চেষ্টা কইরা। আম পাড়ার সময় রুবেলরে অনেকে ডাক দিছে - রুবেল ক্ষান্ত দে। আম পাড়ার পর তারা রুবেলরে কয় - রুবেল তোর হাতে ওইটা কিরে? দেখি দেখি...

[ এই জায়গায় আরো মজা হইছিল। সব মনে পড়তেছে না। এই জায়গার কথা মনে পড়লেই খালি সবুজ আর সবুজ চোখের সামনে ভাইসা উঠে। মজার কোন ঘটনা থাকলে কমেন্টে বলিস। ]

1 comment:

ভানু তপন দিবাকর... said...

লাউয়াছড়ায় আরও অনেক মজা হইছিল, কিছুই তো লিখলি না! গাছের উপর রেলগাড়ি বানাইয়া যে ফোটোসেশান হইল, কাছে দিয়া একটা ট্রেন গেল, বানর না কি জানি দেখলাম একটা, আর কি কি জানি...