Thursday, June 11, 2009

সিলেট ট্যুর - পর্ব ৫ : হাকালুকি হাওড় এবং জামীর আগাম শ্বশুর বাড়ি বেড়ানো

নীলকন্ঠ চা কেবিনের সাত লেয়ারের চা এর চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে আমরা চললাম হাকালুকি হাওড়ের দিকে। মাধবপুর বিল থেকে হাকালুকি হাওড় মোটামুটি দূরে আছে। যদ্দুর মনে পড়ে প্রায় দেড়ঘন্টার মত লাগছে। গরমকালে হাওড়ের পানি অনেকদূর নাইমা যায়। তাই আমরা হাওড়ের কাছাকাছি নামতে পারলাম না। প্রায় ২ মাইলের মত দূরে মাইক্রো থেকে নাইমা হাঁটা দিলাম। তখন বাজে প্রায় ১টা বা ২টার মত। সূর্যের কি তেজ রে বাবা! যারে কয় গনগনে সূর্য, কাঠফাটা রোদ, blazing sun, scorching heat.... যে দিকে হাঁটা দিলাম, সূর্য পড়ল পিঠের দিকে। মনে হইতেছিল পিঠ পুইড়া গেল! পিঠের উপর যেন্‌ চুলা বসাইছে! বাপরে বাপ! তবে আশার কথা হইল ধারে কাছে হাওড় থাকাতে বাতাস ছিল ভাল, বাতাসটাও যেরকম গরম হওয়ার কথা সেরকম ছিল না, অনেকটা ঠান্ডা ছিল। হাঁটতে কষ্ট হইলেও হাঁটা গেছে। হাঁটতে হাঁটতে পথ তো আর শেষ হয় না। কিন্তু কার আগে কে পৌঁছামু এই প্রতিযোগিতা করতে করতে পৌঁছাইয়া গেলাম।

সবার আগে পৌঁছল শান্তনু। তার পরে যারা পৌঁছাইলো তাদের সবাইরে সে বলতে লাগল - হাই, আমি শান্তনু, প্রথম হাকালুকি বিজয়ী :D এরপর পৌঁছল আদনান সহ আরো অনেকে। আদনানের মনে হইল হাকালুকি হাওড়ের পানি পর্যাপ্ত না। মাছদের সমস্যা হইতেছে। তাছাড়া আমরা যারা আসছি তারা এত কম (!) পানি দেখলে হাওড়ের সৌন্দর্য ঠিক উপভোগ করতে পারুম না। সে চুপিসারে আমাদের কাছ থেকে খানিকটা দূরে সইরা গেল। তারপর সে হাকালুকি হাওড়ের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে এবং মাছদের জলীয় খাবার সরবরাহে বিশাল অবদান রাখল। ওদিকে কিছু অতি চালাক পোলাপান শর্টকাট মারতে গিয়া আইলের উপর দিয়া আসতেছিল। তাদের বেশির ভাগের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। সবচেয়ে দুর্ভাগা ছিল মেহেদি। বেচারা কাদায় পইড়া গিয়া অবস্থা বেসামাল।

হাকালুকি হাওড়ে আসছি অথচ একটা নৌকাভ্রমণ হইব না? আশে পাশে কোন নৌকা দেখা যাইতেছে না যে ভাড়া করা যায়। কাছাকাছি হাঁটু পানিতে একটা খালি ডিঙি নৌকা পইড়া ছিল। ফয়সল, রিয়াদ আর ২ জন সেই নৌকায় চইড়া বসল। বৈঠা হিসেবে একটা চিক্‌না লাঠি নিয়া ফয়সল নৌকা বাওয়া শুরু করল। হাঁটু পানির মাঝি ফয়সল এরপর আরো অনেকেরেই নৌকাভ্রমণ করাইল। তাদের নৌকাভ্রমণ শেষ হওয়ার আগেই আমি আর আজম ফিরতি পথে হাঁটা দিলাম। যে গরম পড়ছে তাতে আজম ভাইয়ের গামছা মাথার উপর ভাল কাজে দিছে।

ভাল কথা। এই হাকালুকি হাওড়ের আকাশটা ছিল অসাধারণ। অসাধারণ বইলাও আসলে ঠিক বুঝানো যাইব না। পরিষ্কার আকাশী নীল, তার মাঝে সাদা সাদা মেঘ। সেই রকম ছিল। শবনম আর মুফতি এই জায়গায় বেশ কিছু চমৎকার ছবি তুলছে।

পোলাপান হাকালুকি হাওড় থেকে মাইক্রোতে ফিরা ঠান্ডা খাইলো। আমরা যারা আগেভাগে চইলা আসছিলাম তারা মাইক্রোতে এসি ছাইড়া দিয়া বইসা ছিলাম। মাইক্রো যেইখানে রাখা ছিল, তার পাশেই একটা টিউব-ওয়েল পাওয়া গেল। পানি সেইরকম ঠান্ডা! আমরা অনেকেই সেই ঠান্ডা পানি হাত দিয়া খাইলাম। আহ! কি শান্তি! ঠান্ডা পানি খাইয়াও অনেকের হইল না। তারা সবাই গোসল করল সেইখানে। প্রচন্ড গরমের মধ্যে এই রকম ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে কার না ইচ্ছা করে!

হাকালুকি হাওড় থেকে আমরা সিলেট ঢুকলাম। সিলেটের লাল ব্রিজ / কিং ব্রিজ হয়ে আমরা আগে থেকে বুকিং দিয়া রাখা হোটেল হিল টাউনে গেলাম। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া হয় নাই। প্রচন্ড খিদা লাগছে। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে সবাই খাইতে গেলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে এলিন যাইব তার বাসায়। কাছেই। এখন এলিনরে পৌঁছাইয়া দিতে হবে। প্রথমে শুনছিলাম শবনম এলিনরে পৌঁছাইয়া দিবে। আমি হোটেলে ফিইরা দিলাম ঘুম। ঘুম থেকে উইঠা শুনি জামীও নাকি এলিনের বাসায় গেছিল। সাথে ফয়সলও। জিগাইলাম - জামী কি অবস্থা? শ্বশুরবাড়িতে ইন্টারভ্যিউ কেমন হইল? জামী কয় - এই তো দোস্ত, ভাল (চোখে-মুখে হাসি)। শবনম জানাইল - এলিনের আম্মু জামীর আম্মু / আব্বু কেমন আছে জিগাইছে, কিন্তু ফয়সলের আব্বু/আম্মু কেমন আছে সেইটা জিগাই নাই।

বুঝলাম - এলিনের আম্মা মেয়ের জামাই চিনতে ভুল করে নাই। বেচারা ফয়সল... :P

4 comments:

ভানু তপন দিবাকর... said...

ভালাইছে

ShAnToNu said...

Amra Lal Bridge/Kean Bridge diye jaini, sobsomoy Shahjalal Bridge use korechilam.

ফেরারী ফেরদৌস said...

@শান্তনু, আসলে কিং ব্রিজের উপর দিয়া সাদা মাইক্রো সিলেট ঢুকে নাই। এলিন ড্রাইভার বেনুদাকে অনুরোধ করাতে উনি কিং ব্রিজের পাশ দিয়ে একটু ঘুরাইয়া আনছিলেন। ব্রিজটা বেশ সুন্দর।

Anonymous said...

Really, a walk to remember(to reach hakaluki haor).